
ভুমিকম্প
আপনি কি জানেন, পশ্চিম আফ্রিকান সংস্কৃতির কিছু মানুষ মনে করত, জীবন টিকে আছে এক দৈত্যের মাথার মধ্যে। গাছপালা সেই দৈত্যের চুল। মানুষ ও অন্যান্য প্রাণী হচ্ছে পরজীবীর মতো, যারা দৈত্যের ত্বকজুড়ে ঘুরে বেড়ায়। মাঝে মধ্যে দৈত্যটি মাথা এদিক-ওদিক ঘোরায়। তখনই ভূমিকম্প হয়। আধুনিক ধারণা থেকে কতটা দূরে তারা ছিল তাইনা? তো, আসলে ভুমিকম্প কি এবং বাড়ি তৈরিতে এটি সম্পর্কে জানা কেন জরুরী?
সহজ ভাষায়, ভু অভ্যন্তরে শিলা স্তরের নড়াচড়ার কারণে ভূপৃষ্ঠে যে কম্পন অনুভূত হয় তাকেই আমরা সাধারণত ভুমিকম্প বলে থাকি। তবে ভুমিকম্পের অন্যান্য কারণও আছে, এই যেমন আগ্নেয়গিরিজনিত, শিলাচ্যুতিজনিত, ভূগর্ভস্থ বাষ্প ইত্যাদি। অতীতের রেকর্ড থেকে দেখা যায় ভূমিকম্পের মাত্রা না বাড়লেও ১৯৬০ খ্রিষ্টাব্দের পর থেকে ভূমিকম্প সংঘটনের হার বেড়েছে[, অর্থাৎ ঘন ঘন স্বল্প মাত্রার ভূমিকম্প হচ্ছে। মতবিরোধ থাকলেও অনেক ভূতাত্ত্বিক ছোট ছোট ভূমিকম্প সংঘটন বড় ধরনের ভূমিকম্পের পূর্বাভাস বলে উল্লেখ করেন। অতীতের এসব রেকর্ডকে প্রাধান্য দিয়ে গবেষকরা জানিয়েছেন যে কোনও সময় বাংলাদেশে রিখটার স্কেলে ৮ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানতে পারে।
বুয়েটের গবেষকদের প্রস্তুতকৃত ভূ-কম্পন-এলাকাভিত্তিক মানচিত্রে দেখা যায়, বাংলাদেশের ৪৩% এলাকা ভূমিকম্পের উচ্চমাত্রার ঝুঁকিতে (জোন-১), ৪১% এলাকা মধ্যম (জোন-২) এবং ১৬% এলাকা নিম্ন ঝুঁকিতে (জোন-৩) রয়েছে। মানচিত্র অনুযায়ী, মাত্রাভেদে বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকার অবস্থান নিম্নরূপ:
জোন-১: পঞ্চগড়, রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সিলেট, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সম্পূর্ণ অংশ, এবং ঠাকুরগাঁও, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও কক্সবাজারের অংশবিশেষ।
জোন-২: রাজশাহী, নাটোর, মাগুরা, মেহেরপুর, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ফেনী এবং ঢাকা।
জোন-৩: বরিশাল, পটুয়াখালী, এবং সব দ্বীপ ও চর।
জোন-২-এ অবস্থিত রাজশাহী জেলা, ভূতাত্ত্বিকভাবে সক্রীয় ভূমিকম্প এলাকায় অবস্থিত এবং তাই ১৮৯৭ খ্রিষ্টাব্দের ভূমিকম্পে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। সক্রীয় ভূমিকম্প এলাকায় থাকার কারণে এই অঞ্চলও যেকোনো সময় মারাত্মক ভূমিকম্পের আঘাতে ক্ষত-বিক্ষত হতে পারে।
তাহলে বাড়ি তৈরিতে ভুমিকম্প নিয়ে কেন মাথা ঘামাবো?
হাউস বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট এক গবেষণায় জানিয়েছে, বাংলাদেশের ঢাকাসহ অন্য এলাকায় ভূমিকম্প বা অন্যান্য কারণে ভবন ধসের যেসব ঘটনা ঘটেছে, তার বেশির ভাগই ভবনের ভিতের নকশা সঠিক না হওয়ার কারণেই ঘটেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, বেশির ভাগ ভবন তৈরির সময় মাটির গুণাগুণ পরীক্ষা করা হয় না এবং ভূমিকম্প-সহনীয় করে তৈরি হয় না। বাংলাদেশ আর্থকোয়েক সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী বলেন, ‘ভূমিকম্প এমন একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যেখানে আমরা যতই প্রস্তুতি নিই না কেন তা কোনো কাজে আসবে না যদি অবকাঠামো সঠিকভাবে নির্মাণ করা না হয়। সবচেয়ে গুরুত্ব দিতে হবে ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা ও নির্মাণকৌশল সঠিকভাবে করা এবং নির্মাণের সময় তা নিশ্চিত করা।’
ভবন নির্মাণের শুরুতেই জিও টেকনিক্যাল প্রকৌশলীর পরামর্শে ভবন তৈরির স্থানের মাটি পরীক্ষা ও ভিতের নকশা প্রণয়ন করাতে হবে। এরপর ক্রমান্বয়ে স্থপতির পরামর্শে স্থাপত্যের নকশা তৈরি, কাঠামো প্রকৌশলীর পরামর্শে কাঠামোর নকশা, তড়িৎ ও যন্ত্রপ্রকৌশলীর সমন্বয়ে একটি আদর্শ ভবন নির্মাণ করতে হবে।
ভবন তৈরির সময় অনেকে টাকা বাঁচানোর জন্য ভবনের নকশা থেকে শুরু করে অন্যান্য কাজ করতে পেশাদার প্রকৌশলীর মতামত না নিয়ে শুধু মিস্ত্রিদের কথা শোনেন। এটা ঠিক নয়। আবার নকশাপ্রণয়ন করেই অনেক প্রকৌশলী দায় শেষ করেন। মিস্ত্রি সেটি ঠিকমতো অনুসরণ করছেন কি না, সে বিষয়ে তাঁরা আর ঠিকমতো খোঁজ নেন না। ভবন তৈরির সময় যে রড বা রিং ব্যবহার হচ্ছে বা যে বিম তৈরি হচ্ছে, তা ঠিকমতো হচ্ছে কি না অথবা কলামের সাইজ ঠিক হচ্ছে কি না—তা শুধু মিস্ত্রির ওপর ছেড়ে না দিয়ে দক্ষ প্রকৌশলীদের দিয়ে তদারক করাতে হবে।
ভূমিকম্প সহনশীল ভবন নির্মাণের টিপস
• ভূমির শক্ত মাটির স্তর থেকে বাড়ির ফাউন্ডেশন তুলে আনতে হবে। নরম মাটির স্তর সহজেই সংকুচিত হয়ে ব্যাপক ক্ষতির কারণ হতে পারে।
• ভবনের কাঠামো ভারী ও শক্তিশালী হওয়ার চেয়ে হালকা ও কম্পন হজমকারী ক্ষমতার অধিকারী হওয়া উচিত। নমনীয় ফ্রেমে বাড়ি তৈরী হওয়া বাঞ্ছনীয়। রডের বিন্যাস দ্বারা ভবনের নমনীয়তা বাড়ানো যায়।
• ভবনের ফাউন্ডেশন দেওয়াল, ছাদ, লিন্টেল টাইবিম দ্বারা বেষ্টিত হওয়া প্রয়োজন ।
• সু-উচ্চ ভবনের ফাউন্ডেশনের নীচে রাবার প্যাড ও স্প্রীং ব্যবহার করা যায়। তবে সাত-আট তলা পর্যন্ত অন্তত এক থেকে তিন ফুট পর্যন্ত বালির কুশন দেওয়া উচিত। এটা কম্পন জনিত আঘাত অনেক কমিয়ে দেয়।
• মাথাভারী ভবন বিপদজনক।
• প্রথমে মাটি পরীক্ষা করে নিতে হবে।মাটি দেবে যাওয়ার প্রবণতা আছে কি না তা দেখে বাড়ি নির্মাণ করতে হবে।
• বাড়ি তৈরির ক্ষেত্রে নকশা খুবই প্রয়োজন। দক্ষ প্রকোশলীকে দিয়ে নকশা তৈরি ও তদারকি করানো প্রয়োজন।
• ফাউন্ডেশন বা ভিত্তিপ্রস্তর কোড অনুযায়ী রড ব্যবহার করতে হবে।রডের ব্যবহার ভূমিকম্পের সহনশীল হতে পারে। ভালো মানের রড, সিমেন্ট ও বালু ব্যবহার করতে হবে।
• ভিত্তিপ্রস্তরে গ্রেটবিম কলাম সংযোগস্থলে প্রয়োজনীয় কোর্ড অনুযায়ী রড দিতে হবে। কলামের রডের বাঁধনগুলোর শেষ মাথা ১৩৫ ডিগ্রি হতে হবে।বাঁধনগুলোর মধ্যে ফাঁকা হবে কম।বিম কলামের সংযোগস্থানে জোড়া লাগানো যাবে না।
• বহুতল ভবনে কংক্রিটের তৈরি লিফটের দেওয়াল প্রয়োজনমতো থাকা উচিত।কার পার্কিং বিম এ কলাম বারাবর বাহিরের দেওয়াল প্রয়োজনমতো থাকা উচিত। এছাড়া ভূমিকম্পের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার জন্য অতিরিক্ত খরচ হবে প্রতি বর্গফুট ১০ থেকে ১৫ টাকা।
ঢালাই এ সিমেন্ট, বালি ও খোয়ার হিসাব
Rokib Uddin / Suggestion / 11604 views
Rokib Uddin / Structural Design / 1485 views
Saidur Rahman / Idea / 1403 views
Diagonal Crack in Concrete Beam
Saidur Rahman / Structural Design / 1379 views
Damp Proof Course for Building
S M Fazle Rabbi / Suggestion / 1363 views
S M Hasnat Jamil / Structural Design / 1108 views
কংক্রিটের মিশ্রণ ও আনুপাতিক ব্যবহার
Saidur Rahman / Structural Design / 1067 views
S M Fazle Rabbi / Idea / 926 views
Mostafizur Rahman / Idea / 802 views
Use of Brick Chips and Stone Chips
S M Hasnat Jamil / Suggestion / 760 views
Author: S M Hasnat Jamil / Catagory: Earthquake / 02 May, 2020 / 688 views